আদালত প্রতিবেদক | বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রকাশিত: ৪ জুন ২০২৬
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে নির্মমভাবে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা দেশ কাঁপানো ও বহুল আলোচিত মামলার যুক্তিতর্ক শুনানি আজ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে এই চূড়ান্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী, এই যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হওয়ার পর আদালত যেকোনো দিন চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায়ের চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করতে পারেন।
এর আগে গতকাল বুধবার মামলার আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন ও সাফাই সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। এরপরই বিজ্ঞ আদালত যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য আজ বৃহস্পতিবারের দিনটি ধার্য করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গতকাল বুধবার বেলা ১০টা ৪৫ মিনিটে মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানাকে এবং ১০টা ৫৭ মিনিটে তাঁর স্ত্রী ও মামলার অন্য আসামি স্বপ্না আক্তারকে কড়া নিরাপত্তায় আদালতের এজলাসে হাজির করা হয়। বেলা ১১টা ১০ মিনিটে বিচারক এজলাসে উঠলে শুনানি শুরু হয়। এর আগে দুই আসামিকে আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়েছিল।
শুনানির শুরুতে বিজ্ঞ বিচারক এই মামলায় এ পর্যন্ত সাক্ষ্য দেওয়া ১৬ জন সাক্ষীর গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য, ভিডিও প্রমাণ এবং উদ্ধারকৃত বিভিন্ন আলামত আসামিদের সামনে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। এতে শিশু রামিসাকে নিখোঁজ হওয়ার পর খোঁজার ঘটনা, সন্দেহভাজন ফ্ল্যাট শনাক্তকরণ, ঘর থেকে রক্তের আলামত উদ্ধার এবং শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের রোমহর্ষক বিষয়গুলো উঠে আসে। একই সঙ্গে অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ঘটনার পর স্ত্রী স্বপ্না আক্তার কীভাবে স্বামী সোহেল রানাকে পালিয়ে যেতে সরাসরি সহায়তা করেছিলেন, সে বিষয়টিরও উল্লেখ করা হয়।
আদালতে সাক্ষীদের বিবরণ শোনার পর বিচারক প্রধান আসামি সোহেল রানার কাছে তাঁর কিছু বলার আছে কি না জানতে চান। এ সময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে সোহেল রানা আদালতকে উদ্দেশ্য করে বলেন, "আমিও দোষ করছি, ডলারও দোষ করছে স্যার। আমাকেও সাজা দেন, সঙ্গে ওকেও দেন। ওকে কেউ দেখে নাই, ওরে ধরেন স্যার।"
সে আরও বলে, "আমার ছওয়াল (ছেলে) আছে একটা। আমি ক্ষমা চাচ্ছি স্যার, আমাকে মাফ করে দেন। আরেকটা কথা, আমার বউ কোনো দোষ করেনি, সে নির্দোষ।" এ সময় বিচারক তাকে থামিয়ে দিয়ে বলেন, "আপনারটা আপনি বলুন।"
এরপর আদালত অন্য আসামি স্বপ্নার বক্তব্য শুনতে চান। প্রথমে সে নিশ্চুপ থাকলে আদালত তাকে উদ্দেশ্য করে ঘটনার দিন ঘরের দরজা কেন খোলেননি, তার কোনো ব্যাখ্যা আছে কি না জানতে চান। এ সময় তাকে সতর্ক করে আদালত বলেন, "আপনার স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে যে শাস্তি তাঁর হবে, একই শাস্তি আপনারও হতে পারে।" তখন স্বপ্না কান্নাজড়িত কণ্ঠে আবারও বলেন, "আমি কিছু করিনি স্যার, আমি নির্দোষ।"
দুই আসামির এই বক্তব্য রেকর্ড শেষে মামলাটিতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য আজকের দিন ধার্য করেন আদালত। এর আগে, এ মামলায় চার্জশিটভুক্ত ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের জবানবন্দি রেকর্ড করে সাক্ষ্যগ্রহণ সফলভাবে শেষ করেন আদালত। মামলার বাদী ও নিহত ভিকটিম শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লার জবানবন্দির মাধ্যমেই মূলত এই মামলার বিচারিক সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছিল।
পরবর্তীতে ভিকটিমের মা পারভীন আক্তার, বড় বোন রাইসা আক্তার, ফুপু মাহমুদা আক্তার, চাচা মিজানুর রহমান লিটন, ভবনের চতুর্থ তলার বাসিন্দা মনির হোসেন, প্রতিবেশী জাকিরুল ইসলাম রাজু, দ্বিতীয় তলার বাসিন্দা শেখ আবু সামা, ফুপা মনিরুজ্জামান শাহীন এবং কনস্টেবল রোমা আক্তার ও কনস্টেবল শরীফ মিয়া আদালতে সাক্ষ্য দেন।
এছাড়াও সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতকারী উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইকবাল হোসেন, ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ডা. নাসাদ জাবিন, আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ডকারী মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ, এসআই রাশেদুল ইসলাম এবং মামলার মূল তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের এসআই অহিদুজ্জামান পর্যায়ক্রমে আদালতে জবানবন্দি দেন।
আজকের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ হলে দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী এই শিশু হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচারের চাকা রায়ের ঘোষণার দিকে ধাবিত হবে।
আপনার মন্তব্য জানান:
শিশু সহিংসতা ও অপরাধ দমনে এই মামলার দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া কতটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে আপনি মনে করেন? আপনার মতামত নিচে কমেন্ট করুন।
দেশের আইন-আদালত, চাঞ্চল্যকর মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া, অপরাধ ও মানবাধিকার সংক্রান্ত সব খবর সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও সবার আগে পড়তে নিয়মিত ভিজিট করুন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |